শেয়ারধারী বিও হিসাব বেড়েছে প্রায় সাত হাজার

দেশের পুঁজিবাজারে কয়েক মাস ধরে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে পুঁজিবাজার কিছুটা সচল হওয়ায় নতুন বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ইতিবাচক হতে শুরু করেছে।

দেশের পুঁজিবাজারে কয়েক মাস ধরে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে পুঁজিবাজার কিছুটা সচল হওয়ায় নতুন বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ইতিবাচক হতে শুরু করেছে। এর ফলে গত সেপ্টেম্বরে শেয়ারধারী বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্টের (বিও হিসাব) সংখ্যা প্রায় সাত হাজার বেড়েছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সিডিবিএলের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত আগস্ট শেষে পুঁজিবাজারে শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪০১। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে ১৬ লাখ ৫২ হাজার ২২৭টিতে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৬ হাজার ৮২৬টি।

এ বছরের আগস্ট শেষে পুরুষ বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮, সেপ্টেম্বর শেষে যা ১২ লাখ ৪১ হাজার ৪৭৬টিতে দাঁড়িয়েছে। সে হিসাবে গত মাসে পুরুষ বিও হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৫৭৮টি। অন্যদিকে এ সময়ে নারী বিও হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৪৯টি। আগস্ট শেষে পুঁজিবাজারে নারী বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৭১, গত সেপ্টেম্বর শেষে যা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২০টিতে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে গত সেপ্টেম্বরে শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি শেয়ারশূন্য বিও হিসাবের সংখ্যাও বেড়েছে। গত আগস্ট শেষে শেয়ারশূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৫৯। সেপ্টেম্বর শেষে যা বেড়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৯টিতে দাঁড়িয়েছে।

সেপ্টেম্বরে ব্যক্তিগত বিও হিসাবধারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৮ হাজার ১৭-তে, আগস্ট শেষে যা ছিল ১১ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৮টি। এ সময়ের ব্যবধানে ব্যক্তিগত বিও হিসাব বেড়েছে ৬ হাজার ২১৯টি। সেপ্টেম্বর শেষে যৌথ বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪৭৯-তে, গত আগস্ট শেষে যা ছিল ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮১টি। এ সময়ে যৌথ বিও হিসাব বেড়েছে ৪০৮টি।

এছাড়া সেপ্টেম্বরে দেশী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ৬ হাজার ৫৮৭টি। সেপ্টেম্বর শেষে দেশে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৫-তে, আগস্ট শেষে যা ছিল ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ১০৮টি। এ সময়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ৪০টি। সেপ্টেম্বর শেষে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৮০১টিতে, আগস্ট শেষে যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৬১টি।

শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা বাড়লেও এ বছরের ৩১ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৫৯৪ পয়েন্টে। সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে সূচকটি ৫ হাজার ৪১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ১৭৯ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি এ সময়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন পরিমাণও কমেছে। গত ৩১ আগস্ট ডিএসইতে মোট ১ হাজার ২৯৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আর গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে লেনদেনের পরিমাণ ৬৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সম্প্রতি দেশের পুঁজিবাজার কিছুটা চাঙ্গা হলেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, যে কারণে শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখতে পারলে সামনে শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা বাড়ার পাশাপশি শেয়ারশূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা কমে আসবে।

আরও